সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা
সীমিত বরাদ্দে ১০০টি পাকা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত
- আপলোড সময় : ১৯-১২-২০২৫ ০৯:৩২:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১২-২০২৫ ০৯:৩২:৪৪ পূর্বাহ্ন
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সামাজিক গতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সীমিত বরাদ্দের মধ্যেই ১০০টি পাকা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। যেখানে বছরের পর বছর ধরে মাটির রাস্তা নির্মাণ করে বর্ষা এলেই তা ধ্বংস হয়ে যেত, সেখানে এবার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটার সাহসী সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি ইউনিয়নে ১০০টি সিসি পাকা সড়ক ও কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণের ফলে লাখো গ্রামীণ মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। এসব সড়ক স্থানীয় বাজার, সদর সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পথের সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করেছে, যা কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচল এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই সড়কগুলো অস্থায়ী নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করছে।
সুনামগঞ্জের মতো বৃষ্টিপ্রবণ ও হাওরাঞ্চল এলাকায় মাটির রাস্তা যে অর্থনৈতিক অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়, তা বহু আগেই প্রমাণিত। প্রতি বছর একই রাস্তায় মাটি ফেলে আবার ভেঙে যাওয়ার চক্র থেকে বেরিয়ে আসার যে উদ্যোগ এবার নেওয়া হয়েছে, তা সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। বরাদ্দের বড় অংশ সরাসরি পাকা সড়কে ব্যবহার, কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার মনোভাব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে- স্বাধীনভাবে ও চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারলে অল্প বরাদ্দেও দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য উপজেলাগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে যদি সারা দেশেই অস্থায়ী কাজের বদলে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে গ্রামীণ উন্নয়ন হবে টেকসই, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মানুষের ভোগান্তি কমবে।
আমরা মনে করি, এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বরাদ্দ বাড়ানো, জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাহলেই “গ্রাম বাংলা বদলে যাবে” - এই আশাবাদ আর স্লোগান নয়, বাস্তবতায় রূপ নেবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়